নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মুক্তিপণের দাবিতে আটকে রাখা এক কলেজ ছাত্রকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১১। গ্রেফতারদের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের বন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়।
থানা পুলিশ জানায়, ঢাকা আজিমপুর হোমটেক টাওয়ারের বাসিন্দা মাসুদুর রহমান খানের ছেলে জুন্নুন রহমান খান (১৬) এ চক্রের ফাঁদে পড়েন। টেনটেন অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন প্রতারক চক্রের সঙ্গে পরিচয় হয় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুন্নুনের।
সেই সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর বন্দর খেয়াঘাটে দেখা করতে যান তিনি। সেখানে চক্রের এক সদস্য তাকে রিকশাযোগে মদনগঞ্জ শান্তিনগরের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও ৫/৬ জন মিলে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে মারধর করে তার কাছে থাকা ৬ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা।
পরে জুন্নুনের বড় ভাই ইফফাতুর রহমানের কাছে ফোন করে আরও ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। বিষয়টি জানতে পেরে জুন্নুনের পরিবার র্যাব-১১ কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতেই জুন্নুন রহমানকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চক্রের মূল হোতা মো. আকাশ, মো. সিয়াম, ফয়সাল, সঞ্জয় শীল ও বায়োজিদকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের থানায় সোপর্দ করে র্যাব। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা লিওজা আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তাফা আশরাফ উদ্দিন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ‘ফাঁদ পেতে মুক্তিপণ আদায়’-এর বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ চক্রের সদস্যরা কৌশলে তরুণদের ডেকে এনে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করত।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতারদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।








Leave a Reply